
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে তীব্র বিক্ষোভ
মমতাকে হটাতে এক দফা ধর্মঘটের ডাক বিজেপির : কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ


জনতা ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এক চিকিৎসককে ধর্ষণ করে হত্যার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে ও রাজপথে নেমেছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসককে ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে কলকাতা। এই ঘটনার জেরে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। গত বুধবার কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে ‘রাত দখল করো’ কর্মসূচিতে অংশ নেয় বহু নারী-পুরুষ। এদিকে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিরোধীরা। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের ‘এক দফা’ দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। প্রতিবাদ জানাতে গোটা রাজ্য ‘স্তব্ধ করার’ ডাক দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা অর্থাৎ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবিতে গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিজেপি দুই ঘণ্টা ‘রাস্তা রোকো’ বা অবরোধের ডাক দেয়। মূলত প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছিল বিজেপির নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভরত বিজেপির এসব নেতাকর্মীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় বিজেপির একাধিক কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া সমাজবাদী ইউনিটি সেন্টার অব ইন্ডিয়ার (এসইউসিআই) সঙ্গে হাজরায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। তারাও চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধ বিক্ষোভ করছিল। এদিকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি পর্যন্ত বিজেপির মহিলা মোর্চার মোমবাতি মিছিল করা হয়। অন্যদিকে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে ১২ ঘণ্টার বাংলা বন্ধের ডাক দিয়েছিলো এসইউসিআই। গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে তাদের এই বন্ধ চলেছে। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে এসইউসিআই’র ধর্মঘটকেও সমর্থন দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ‘দফা এক, দাবি এক, সবাইকে বলব কাল স্তব্ধ করে দিন বাংলা’, আওয়াজ তোলেন বিরোধী দলনেতা। এদিকে এসইউসিআই’র বন্ধের ডাক নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। ‘গতকাল শুক্রবার সরকারি কর্মচারীরা অফিসে না এলে একদিনের বেতন কাটা যাবে’ বলে স্পষ্ট করা হয়েছিলো নির্দেশিকায়। আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া তাণ্ডবের প্রতিবাদ করে শুভেন্দু বলেন, ‘দফা এক, দাবি এক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ। আমি এই রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলকে বলব, স্তব্ধ করুন বাংলা। বন্ধ ডেকে করুন, যেভাবে পারেন করুন। সবাই মিলে করুন, স্তব্ধ করুন পশ্চিমবঙ্গ।’ এর জবাবে পাল্টা কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতার মন্তব্য, ‘আমাদের বাংলায় ধর্মঘট হয় না। কারণ আমাদের ধর্মঘট বন্ধ করা আছে। যে ধর্মঘটে অংশ নেবে সে নিজেরটা নিজে বুঝে নেবে। কিন্তু আমি সবাইকে আবেদন করব সব খোলা রাখতে। বাংলাকে অচল করে দেয়ার পরিকল্পনা করে, সন্ত্রাস করার একটা পরিকল্পনা চলছে বাম আর রামের।’
এদিকে কলকাতার চিকিৎসককে নৃসংসভাবে হত্যার এ ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের চিকিৎসকরা বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। এ কারণে রাজস্থানের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। সাওয়াই মান সিং হসপিটাল মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা পুরোপুরি কর্মবিরতি পালন করছেন। এছাড়া অন্যান্য হাসপাতালের চিকিৎসকরা র্যালি করার পরিকল্পনা করছেন। পাটনার ইন্দিরা গান্ধী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যতদিন পর্যন্ত কলকাতার ওই নারী চিকিৎসকের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হচ্ছে ততদিন তারা কাজে ফিরবেন না। এই হাসপাতালটির জরুরি বিভাগও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এদিকে কলকাতার পুলিশ জানিয়েছে আরজি কর মেডিকেল কলেজে পরশু রাতে যারা ভাঙচুর চালিয়েছিল তাদের মধ্যে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ২২ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশি রিমান্ডেও নেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গে ‘রাত দখল করো’ কর্মসূচি পালন করা হয়। ওইদিন রাতে আরজি কর হাসপাতালে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এসব দুর্বৃত্ত হাসপাতালটির নার্সিং স্টেশন, মেডিসিন স্টোর এবং বহির্বিভাগের একটি অংশে ভাঙচুর চালায়। কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে নারী নেত্রী রিমঝিম সিনহা ‘রাত দখল করো’ কর্মসূচির ডাক দেন। এ সময় শুধু কলকাতা নয় ভারতের দিল্লি, হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও পুনের মতো শহরেও ছোট ছোট বিক্ষোভে অংশ নেয় সাধারণ জনগণ। আরজি কর হাসপাতালে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পুলিশ এবং ‘অজ্ঞাত’ এক দল ব্যক্তিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালানো হয়। উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে এক পর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। পুলিশের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। কিছু বহিরাগতরা সেখানে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থী। শহরের বিভিন্ন অংশে নারীদের এ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা জানাতে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। দৃঢ়তার সাথে প্রতিবাদী চিহ্ন নিয়ে মিছিল করেন তারা।
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ